ছোট বেলা থেকে বইয়ে পড়ে এসেছি বাংলাদেশ তেরোশত নদীর দেশ। দাদির কাছ থেকে নদী ও নৌকার জীবনের গল্প অনেক শুনেছি । আমাদের পাশে যে নদীটি আছে তা হচ্ছে সাঙ্গু নদী। আমাদের বাড়ি থেকে কিছু দূরে এই নদীর অবস্থান। কিন্তু আমার শৈশবের স্মৃতিতে এই নদীর কোন মূহুর্ত বন্দি নেই। কারন খুব অল্প বয়সেই আমি একটি হোস্টেলে আমার শৈশব পার করি। এর যথেষ্ট কারণ ও আছে। কারণটি হচ্ছে আমি ছোট বেলায় অনেক বেশি দুষ্ট ছিলাম। বেশি বেশি স্কুল ফাঁকি দিতাম। ছোট বেলার আমার প্রিয় জিনিসটি ছিল ক্রিকেট। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। পড়ালেখার ধারে কাছে ছিলাম না। আমার শৈশবের বন্ধু Abdullah Nayem এর সাথে প্রচুর ক্রিকেট খেলতাম। দুইজনেই ছিলাম ক্রিকেট ভক্ত। এমন কি শৈশবের আমার সপ্ন ছিল ক্রিকেটার হবো। খুবই ইচ্ছা ছিল ক্রিকেটার হওয়ার কিন্তু ভাগ্য আমার পক্ষে ছিল না। এই সব কারণে আম্মু আমাকে একটি হোস্টেলে ভর্তি করিয়ে দেন। হোস্টেলে যাওয়ার পরেও আমার সপ্ন ছিল ক্রিকেটার হবো। কিন্তু এক সময় বুঝতে পারি তা কখনো সম্ভব না। এই হোস্টেলে গিয়ে আমি প্রথম প্রথম তেমন পড়ালেখা করতাম না। কিন্তু আস্তে আস্তে পড়াশোনার প্রতি মন বসে। তারপর থেকে আর পিছনে ফিরতে হয় নাই। আস্তে আস্তে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বেড়ে যায়। অবশেষে গ্রামের স্কুলে ফেল করা ছেলেটি পিএসসি তে জিপিএ ৫ পাই। এভাবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলেই আমার প্রিয় মূহুর্ত গুলো পার করি। কিন্তু স্কুল লাইফের শেষ বছরে এসে করোনা মহামারীর কারনে সব শেষ হয়ে যায়। কত আশা ছিল স্কুল লাইফের শেষ বছরটা একটু অন্যরকম ভাবে উপভোগ করবো কিন্তু আমাদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। ফিরে আসি গ্রামে। তারপর আস্তে আস্তে গ্রামকে উপভোগ করতে থাকি। গ্রামে এসে আমার যে জিনিসটার সাথে বেশি বন্ধুত্ব হয়েছে তা হচ্ছে প্রকৃতি। একদিন ভাবলাম সাইকেল নিয়ে আমাদের পাশে থাকা সাঙ্গু নদীর মানুষ, মাঝি, নৌকা ও জেলেদের জীবন কাহিনী গুলো দেখে আসি। তাই সময় করে একদিন আমার প্রিয় সাইকেল নিয়ে রওনা দিলাম। নিজে উপভোগ করার সাথে সাথে কিছু মূহুর্ত ক্যামেরা বন্দি করলাম। আশা করি সব আলোকচিত্র আপনাদের ভালো লাগবে।
0 Comments